Monday, September 15, 2014

দেখে নিন চোখ উঠলে কি করবেন !!

সংবাদপত্রে দেখলাম দেশের বিভিন্ন জায়গায় চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তাই ভাবলাম এটা নিয়েই কিছু লিখি। চোখ ওঠা রোগটি নিয়ে অনেক ভুল ধারনা আমাদের মাঝে রয়েছে। তাই আমাদের এ বিষয়ে একটু জানতে হবে।
প্রথমেই আসি এই চোখ ওঠা রোগ টা আসলে কি? চোখ ওঠা রোগটা মুলত কনজাংটিভাইটিস নামক একটি স্পর্শ কাতর রোগ। কনজাংটিভা নামে চোখের একটি পর্দা আছে। এই রোগে এই কনজাংটিভা পর্দায় প্রদাহ বা ব্যাথা হয়। এই রোগের মূল কারন ভাইরাস হলেও ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জির কারনেও চোখ উঠতে পারে। তবে এটা প্রচণ্ড ছোঁয়াচে। অনেকের মাঝেই একটা ভ্রান্ত ধারনা আছে যে কারো যদি চোখ ওঠে তবে তার চোখের দিকে তাকালে চোখ ওঠে। এটা একেবারেই ভুল ধারনা। এটি ছোঁয়াচে হতে পারে তাই বলে চোখের দিকে তাকালে হয় না।
PAGE-43
এখন আসি এই কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা রোগের লক্ষন বিষয়ে। চোখ উঠলে সাধারনত চোখ দিয়ে পানি পড়ে, চোখ লাল হয়ে যায়, অনেক সময় চোখের পাতা ফুলে যায়, কারও চোখের কর্নিয়া আক্রান্ত হলে তার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
লক্ষন তো জানলেন এবার আসেন জেনে নেই কিভাবে এই রোগ ছড়ায়, কেননা সেটা জানা থাকলে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে। যদি কারো চোখ ওঠে তবে তার অশ্রুতে অর্থাৎ চোখের পানিতে ভাইরাসেরা ভেসে বেড়ায়। এসময় চোখ দিয়ে পানি পরে তাই আক্রান্ত ব্যাক্তি ঘন ঘন চোখ মোছে। ফলে ভাইরাসেরা সুযোগ পেয়ে আক্রান্ত ব্যাক্তির হাতে চলে আসে। সেই হাত দিয়ে আক্রান্ত ব্যাক্তি যেখানে স্পর্শ করে ভাইরাস সেখানে চলে যায়। যেমন কারো সাথে যদি করমর্দন বা হ্যান্ড শেক করে তবে তার হাতেও এই ভাইরাস চলে যায়। এছারা টিভির রিমোট, চায়ের কাপ, মুঠোফোন, লাইট বা ফ্যান এর সুইচ, বালিসের কাভার এগুলোর মাধ্যমে ও ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের কাছে চলে যেতে পারে।
এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় তা তো জানলেন এখন আসুন জেনে নেই আক্রান্ত হলে কি করা যাবে। যেটা অতিব জরুরি তা হল একটা পরিস্কার রুমাল রাখতে হবে চোখ মোছার জন্য এবং সতর্ক থাকতে হবে অন্য কেও যেন এই রুমাল স্পর্শ না করে। চোখ চুল্কালে হাত দিয়ে চোখ ঘসার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। চোখে বাইরের অপরিস্কার পানি দিয়ে ঝাপটা একেবারেই দিবেন না। পরিস্কার পানি না পেলে দরকার হলে একটা মিনারেল পানির বোতল কিনে নিন। চোখ যদি বেশি ফুলে যায় তবে বরফ ব্যাবহার করতে পারেন। আর বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যয় কালো চশমা পরে বের হবেন। এটা আপনাকে রোদ ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা করবে। আর এগুলো করার আগে যেটা করবেন সেটা হল একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে ওষুধ খাবেন। সাধারনত ৩-৪ দিনের মধ্যে এই রোগ ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অসতর্ক থাকার কারনে পরিবারের বা আক্রান্ত ব্যাক্তির বন্ধু বান্ধবের মাঝে ছড়িয়ে যায়। তাই সতর্ক থাকুন।

0 কমেন্ট:

Post a Comment

প্রিয় পাঠক, পোস্টটি পড়ার পর আপনার ভালো-লাগা, মন্দ-লাগা, জিজ্ঞাসা কিংবা পরামর্শ প্রদানের জন্য দয়া করে মন্তব্য প্রদান করুন। যা আমাকে ব্লগিং চালিয়ে যেতে অনেক উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জাগাবে।
পোস্টটি পড়ে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ !!

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | coupon codes